প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করবেন যেভাবে

দেশের তথা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে এই প্রথম ইতিহাস সৃষ্টিকারী বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বমোট ৩২ হাজার ৫৭৭ পদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। তবে কিভাবে তার জন্য আবেদন করবেন সে বিষয়ে জানাটা আবশ্যক।

যারা ইতোমধ্যে এর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন তারা এগিয়ে থাকলেন। আর যারা জানেন না তাদের জন্যই আমাদের এই পোস্ট।

আগামী ২৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের আবেদন শুরু হচ্ছে। অনলাইনের মাধ্যমে ২৪ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ পর্যন্ত প্রার্থীরা এতে আবেদন করতে পারবেন।

যথারীতি এবছরও ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। তবে টেলিটকের সার্ভিস চার্জসহ ফি পড়বে ১১০ টাকা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শূন্যপদ এবং জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৃষ্ট সহকারী শিক্ষক পদে জাতীয় স্কেলে ১৩তম গ্রেডে অস্থায়ীভাবে এসব নিয়োগ দেয়া হবে।

তবে তিন পার্বত্য জেলা যেমন- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার প্রার্থীরা এতে আবেদন করতে পারবেন না।

অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রার্থীদেরকে (http://dpe.teletalk.cob.bd/) ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদনের ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে বিস্তারিত নির্দেশনা দেয়া থাকবে এবং প্রার্থীদেরকে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

আবেদনপত্র পূরণ করা হয়ে গেলে জমা করার পর এর অ্যাপ্লিকেশন কপি প্রিন্ট করে রাখতে হবে। অ্যাপ্লিকেশন কপির ইউজার আইডি দিয়ে আবেদন ফি জমা দিতে হবে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে তাহলো- একবার আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর অ্যাপ্লিকেশন ফরম কোনো অবস্থায়ই সংশোধন বা প্রত্যাহার করার সুযোগ নেই। কেবল ইউজার আইডিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা আবেদন পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএসের মাধ্যমে ফি জমা দিতে পারবেন।

আবেদনকারীকে টেলিটকের পক্ষ থেকে একটি ইউজার আইডি ও তার পাসওয়ার্ড সরবরাহ করা হবে। যা তাকে সব সময়ের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রত্যেক প্রার্থীকে পরীক্ষার ফি বাবদ সার্ভিস চার্জসহ ১১০ টাকা (অফেরৎযোগ্য) যেকোনো টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে আরো যে বিষয়গুলো জানতে হবে সেগুলো হলো:

বয়সসীমা: প্রার্থীদের বয়স চলতি বছরের ২০ অক্টোবরে সর্বনিম্ন ২১ বছর এবং ২৫ মার্চ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে হবে।
তবে কিছুটা শিথিলতা সাপেক্ষে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩২ বছর রাখা হয়েছে। তবে বয়স নিরূপণে এফিডেভিট গ্রহণ করা হবে না। ভোটার আইডি বা জন্ম নিবন্ধন সনদই তার বয়সের প্রামাণ্য দলিল।

শিক্ষা: প্রার্থীকে দেশের যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা সম্মান বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।

পরীক্ষ পদ্ধতি কেমন হবে: প্রথমে ৮০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে।

তবে এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় কত নম্বরের পরীক্ষা হবে এ বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসব পরীক্ষার তারিখ পরে অধিদফতরের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে অধিদফতর।

প্রার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী “প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবেদনপত্রের সঙ্গে অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কিত সব মূল বা সাময়িক সনদপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/পৌরসভার মেয়র/সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে।”

বেতন কাঠামো : জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৩তম গ্রেডের অধীনে ১১০০০-২৬৫৯০ টাকা বেতন প্রদান করা হবে।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.